ঢাকায় শুরু হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী

স্টাফ রিপোর্টার: তৈরি পোশাক শিল্পের আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ২৪ দেশের ৪শ’ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একসঙ্গে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রর্দশনী।

 
আগামী ১৮ জানুযারি বুধবার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চারদিনব্যাপী এ প্রদর্শনীগুলোর উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।

‘গার্মেন্টেক বাংলাদেশ ২০১৭’, ‘ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক সোর্সিং ফেয়ার’ এবং ‘গ্যাপেক্সপো’ শীর্ষক তিনটি প্রদর্শনীতে ২৪টি দেশের ৪০০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে।

 

জাকারিয়া ট্রেড আ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েসন (বিজিএপিএমইএ) সম্মিলিতভাবে প্রদর্শনীগুলোর আয়োজন করবে বলে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

 
রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ হোটেল লা ভিঞ্চিতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, পোশাক শিল্পের মেশিনারি এবং এর সহায়ক পণ্যের ১৬তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘গার্মেন্টেক বাংলাদেশ ২০১৬’, ৮ম ‘ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক র্সোসিং ফেয়ার’ এবং ৮ম ‘গ্যাপেক্সপো’ শীর্ষক তিনটি প্রদর্শনী আইসিসিবি’র আটটি হল জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে, যা চলবে  আগামী ১৮ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

 

আগের আসরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, ভারত , চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, জাপান, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, থাইল্যান্ড, কলম্বিয়া, মালয়শিয়া, কানাডা, স্পেন, ফ্রান্স এবং হংকং’এর মোট ৪০০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রডাক্টিভিটি, সেইফটি, কমপ্লায়েন্স, ইফিসিয়েন্সি, ভ্যালু এডিশন, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন, ফ্যাব্রিক সোর্সিং এবং প্যাকেজিং সংশ্লিষ্ট টেকনোলজি সল্যুশন্স উপস্থাপন করবে।

 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এবং প্যাকেজিং পণ্য রফতানি করে দেশে বিগত অর্থ বছরে প্রায় ৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। বিজিএমইএ ২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে পোশাক তৈরির সর্বাধুনিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিসমূহ তুলে ধরা হবে। এসব প্রযুক্তি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ উৎপাদন, মান, কমপ্লায়েন্স এবং মূল্য সংযোজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

 
বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের মধ্যে অন্যতম এবং এই শিল্পের নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্স নিয়ে প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে। তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকরা মানসম্মত গার্মেন্ট পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উৎস তুলে ধরা এবং সেগুলোর কার্যক্রম প্রদর্শনের জন্য ‘গার্মেন্টেক বাংলাদেশ ২০১৭’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘গার্মেন্টেক বাংলাদেশ ২০১৭’ এ আর্ন্তজাতিকমানের স্যুয়িং, নীটিং, এমব্রয়ডারি, লন্ড্রি, ফিনিশিং, ডায়িং, ক্যাড/ক্যাম, প্রিন্টিং কাটিং, স্প্রেডিং মেশিনারি তুলে ধরবে।
৮ম বারের মতো অনুষ্ঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিকস সোর্সিং ফেয়ার’এ বিভিন্ন কোম্পানি প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সূতা এবং ওভেন ও নীট শিল্পের জন্য উভয়ের মিশ্রণের সর্বাধুনিক সংগ্রহ তুলে ধরবে। প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীদের সামনে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম ফেব্রিকের নতুন এবং উদ্ভাবনীমূলক মিশ্রণ উপস্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এর সহযোগিতায় ‘গ্যাপেক্সপো-২০১৭’ এর ৮ম আসরে থাকবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ এবং মোড়কসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিস্তৃত সংগ্রহ।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ, মোড়কিকরণ এবং লেবেল, জিপার, ট্যাগ, ট্যাপ, থ্রেড, রিবন, বাটন, রিভেট, লেইস, হুক, ট্রান্সফার ফিল্ম, পেপার, ইঙ্ক ইত্যাদিসহ সংশ্লিষ্ট মেশিনারি তুলে ধরবে।
সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলবে।

 

ঢাকানিউজ১৬ ডটকম//এলএইচ//


শেয়ার করুন


মন্তব্য করুনঃ